1. domhostregbd@gmail.com : admin :
  2. faruqqepress@gmail.com : znewstv :

ধর্ম কি এবং কেন?

  • Update Time : Saturday, August 7, 2021
  • 97 Time View

মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমানঃ বিশ্বাসি অবিশ্বাসি নির্বিশেষে সবাই ধর্ম মানে। যদিও সবার ধর্ম একনয়। একজন অবিশ্বাসি যিনি ধর্ম মানেন না বলে প্রচার করলেও তারও ধর্ম আছে যা সবার থেকে আলাদা।

এবার দেখার চেষ্টা করবো আসলে ধর্ম কি? যারা মানেন এই বিশ্বজগতের স্রষ্টা একজন । তারা বিশ্বাস করেন স্রষ্টা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করে তার সব সৃষ্টির পরিচালনার জন্য নিয়ম সৃষ্টি করে দিয়েছেন। সবাই সেই নিয়ম মেনে চলছে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায়।

“এরা কি আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য দ্বীনের সন্ধান করছে? অথচ আসমান ও যমীনে যা আছে সবই ইচ্ছেয় ও অনিচ্ছেয় তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাঁরই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন।”
(QS. Ali ‘Imran 3: Verse 83)

যেমন সূর্য আলো দেয়। চন্দ্র কিরণ বিকিরণ করে নীশিথে নিলিমায়। সবই আকাশে তার কক্ষপথে বিচরণ করছে।

“সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদকে ধরে ফেলা, আর রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে ছাড়িয়ে আগে বেড়ে যাওয়া, প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষ পথে সাঁতার কাটছে।”
(QS. Ya-Sin 36: Verse 40)
এতো গেলো ইচ্ছায় সব সৃষ্টি আকাশে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট নিয়মে নিহত আদেশ মেনে চলছে। তাহলে অনিচ্ছায় কিভাবে সৃষ্টিকর্তার আদেশ বিশ্বজগতে সৃষ্টি প্রতিপালন করছে? যেমন আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এই মানুষের মধ্যে যারা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনা তারাও ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট বাতাস নিঃশ্বাসে গ্ৰহন করতে বাধ্য হচ্ছে। ঐ অবিশ্বাসিকে খদ্যগ্ৰহন করতেই হয় যা আল্লাহর সৃষ্টি। তাকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় পায়খানা এবং প্রশ্রাব করতেই হয়। অর্থাৎ আমরা মানি বা নাই মানি , ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সৃষ্টিকর্তার অদেশ পালন করছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি।

এই যে নিয়ম সৃষ্টিকর্তা তাঁর সৃষ্টির মাঝে সৃষ্টি করে দিয়েছেন বিশ্বজগতের পরিচালনার জন্য এটা সৃষ্টি বিশেষের সহজাত বা স্বভাবজাত ধর্ম। যেমন আমরা বলি দাহ্যকরা আগুনের ধর্ম। শীতল করা পানির ধর্ম। পানি পানে তৃষ্ণা নিবারণ হয়। রাগ, স্নেহ,মমতা, ভালোবাসা, লোভ মোহ, মাৎষর্য এসব মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি।

আমরা যদি গভীর ভাবে লক্ষ্য করি তাহলে একটা প্রশ্ন আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হয় তাহলো সৃষ্টিকর্তা এই বিশ্বজগতকে কেন সৃষ্টি করলেন? দেখবো বিশ্বজগতের সহজাত প্রবৃত্তি লালিত সৃষ্টিকে পরিচালনার জন্য একটি সুমহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সৃষ্টিকর্তা এই বিশ্বজগতকে সৃষ্টি করেছেন খেলাচ্ছলে নয়।

“আমি আকাশ, যমীন আর এদের মাঝে যা আছে সে সব খেল-তামাশার ফলে সৃষ্টি করিনি।”
(QS. Ad-Dukhan 44: Verse 38)

“আমি ওদু’টিকে সত্যিকার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু তাদের অধিকাংশই (তা) জানে না।”
(QS. Ad-Dukhan 44: Verse 39)
আমরা যদি মানুষ আর জ্বীনকে বাদদেই তাহলে দেখবো এই বিশ্বজগতের সৃষ্টির উদ্দেশ্য অন্য সৃষ্টিরা জানেনা। যেমন একটা সিংহ কিংবা পাখি জানেনা কেন সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন?

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মানুষ ও জ্বীন জাতিকে অবহিত করেছেন তিনি এই পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে চান।

“স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক যখন ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘আমি যমীনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি’; তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকেও পয়দা করবেন যে অশান্তি সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? আমরাই তো আপনার প্রশংসামূলক তাসবীহ পাঠ ও পবিত্রতা ঘোষণা করি’। তিনি বললেন, ‘আমি যা জানি, তোমরা তা জান না’।”
(QS. Al-Baqarah 2: Verse 30)
এটা নিশ্চিত হলো যে বিশ্বজগতে প্রতিনিধি সৃষ্টির জন্য আল্লাহ এই বিশ্বজগতকে সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহর সেই প্রতিনিধি হলো মানুষ। আর মানুষের কল্যাণে আল্লাহ বিশ্বজগতের সব সষ্টিকে নিয়োজিত করেছেন।

“আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত রেখেছেন যা আছে আকাশে আর যা আছে যমীনে সেগুলোর সব কিছুকে। এতে চিন্তাশীল মানুষদের জন্য অবশ্যই অনেক নিদর্শন আছে।”
(QS. Al-Jathiyah 45: Verse 13)
আর মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আল্লাহ কোরআনে উল্লেখ করেছেন আমি আমার এবাদতের জন্য মানুষকে সৃষ্টি করেছি।

“আমি জ্বিন ও মানবকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র এ কারণে যে, তারা আমারই ‘ইবাদাত করবে।।”
(QS. Az-Zariyat 51: Verse 56)

আল্লাহর খলিফা হিসাবে এই বিশ্বজগতে তার খেলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্য এই বিশ্বজগতে আল্লাহর আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলার এবং আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইহকাল ও পরকালে মুক্তি অর্জনের বিধানাবলীই হলো ধর্ম। পবিত্র কোরআনে সেই সব হেদায়েত বা দিক নির্দেশনা আল্লাহ সবিস্তারে সন্নিবেশিত করেছেন মানুষ ও জ্বীনের জন্য।

একটা প্রশ্নের সমাধান না করলে এই লেখাটি সম্পুর্ণ হবেনা। যে মানুষের জন্য বিশ্বজগত সৃষ্টি করলেন আল্লাহ,যে মানুষ ও জ্বীন জাতিকে আল্লাহ তাঁর এবাদতের জন্য সৃষ্টি করলেন সেই মানুষকে আল্লাহ দুনিয়াতে সৃষ্টি না করে জান্নাতে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে প্রেরন করলেন কেন? এর কারণ আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন সুরা বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতে। যে আল্লাহ পৃথিবীতের তাঁর খলিফা প্রেরণ করতে চান। অতএব আগে বিশ্বজগত সৃষ্টি সম্পন্ন হবে তার পরে
খলিফার আগমন ঘটবে। তাই পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টির প্রশ্ন আসেনা। এই আয়াতে আরো জানা যায় যে বিশ্বজগৎ সৃষ্টি সম্পন্ন হবার অনেক অনেক পরে আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করার অভিপ্রায় ব্যাক্ত করেন। অতএব বিশ্বজগতে আল্লাহর খলিফাকে আল্লাহ জান্নাতে সৃষ্টি করে ফেরেশতাদের দ্বারা সেজদা করিয়ে সম্মানিত করে পৃথিবীতে প্রেরন করেছেন।

লেখকঃ
লেখক ও কলামিস্ট
মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান।
সাবেক বিডিআর প্রধান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category