July 17, 2024, 5:37 pm

নির্বাচন বিশ্বের সকল গনতান্ত্রিক দেশের ন্যায় স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন হয়েছে :”ইউবিআইইএমও”

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২৪
  • 57 Time View

বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বের সকল গনতান্ত্রিক দেশের ন্যায় স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন হয়েছে :”ইউবিআইইএমও”

সিহাবুল আলম সম্রাট
বিভাগীয় ব্যুরো চীফ রাজশাহী

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশ্বের সকল গনতান্ত্রিক দেশের ন্যায় স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা “ইউবিআইইএমও”।

বাংলাদেশে প্রধান নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে গত ৭ই জানুয়ারী ২০২৪ ইং এ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দেশ বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থা ও তাদের সদস্য, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্মীসহ নানান শ্রেণি পেশার সদস্যরা পর্যবেক্ষণ করেন।

সুস্থ্য ও গনতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত নির্বাচন এর সকল কার্যক্রম গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা “ইউএসএ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ইলেকশন মনিটরিং অর্গানাইজেশান” (ইউবিআইইএমও)।

“ইউবিআইইএমও” ইউএসএ ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবি, মানবাধিকার কর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইউবিআইইএমও বিশ্বাস করে ‘গণতন্ত্রের জন্য স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচন’ হওয়া জরুরী। গণতন্ত্রের জন্য স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচন হওয়ার বিকল্প নেই, নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের মতাধিকার দিয়ে থাকেন। যেখানে সংখ্যাগরিষ্ট নাগরিকদের মতামতের উপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হয়।

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষন করে ইউবিআইইএমও। সংস্থার সভাপতি এম এ ছালাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আতাউর রহমান শামিম, সহ-সভাপতি ও সিইও হাঁকিকুল ইসলাম খোকনসহ সিনিয়র নেত্রীবৃন্দের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশের একঝাঁক তরুণ ও প্রবীণ সাংবাদিক, আইনজীবি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মানবাধিকার কর্মী যাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা আছে তাদের নিয়ে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে।

ইউবিআইইএমও নির্বাচনের আগে, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তীকালীন ঘটনা প্রবাহ তাদের নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের দ্বারা পর্যবেক্ষণ করে।

ইউবিআইইএমও এর পর্যবেক্ষণ এজেন্ডা ছিল : ক) নির্বাচনী পরিবেশ, খ) নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী প্রার্থীদের বাঁধা-বিপত্তিহীন নির্বাচনী প্রচার ও প্রচারণা, গ) ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার প্রয়োগ, ঘ) নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা ঙ) নির্বাচন কালীন সহিংসতার উপর।

ইউবিআইইএমও এর ৩০০ আসনের পর্যবেক্ষণী রিপোর্টে নির্বাচনী পরিবেশ ছিল শতকরা মানদন্ডে ৮০ শতাংশ, নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী প্রার্থীদের বাঁধা-বিপত্তিহীন নির্বাচনী প্রচার ও প্রচারণায় শতকরা মানদন্ড ছিল ৮০ শতাংশ, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার প্রয়োগে শতকরা মানদন্ড ছিল ৬০ শতাংশ, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা শতকরা মানদন্ড ছিল ৭০ শতাংশ এবং নির্বাচন কালীন সহিংসতা ছিল ২০ শতাংশ।

পর্যবেক্ষণ তথ্য সংগ্রহের উৎস: ইউবিআইইএমও এর পর্যবেক্ষকরা নিজ জেলায় নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আসা তথ্য উপাত্ত গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই, প্রার্থীদের বক্তব্য গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই ও নির্বাচনকেন্দ্রীক অন্যান্য উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং কারো প্ররোচনায় প্ররোচিত বা প্রভাবিত হয়ে তথ্য প্রদান করেন নাই বলে নিশ্চিত করেন এবং তথ্য প্রদানে কোনরুপ ভয়ভীতি ও চাপ অনুভব করেন নাই বলেও নিশ্চিত করেন।

পর্যবেক্ষকরা স্বাধীনভাবে নির্বাচনের দিন সকাল ৭ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভোট পরবর্তী গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পর্যবেক্ষকরা ভোটারদের ভোট প্রদানে কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে কিনা, ভোটার উপস্থিতি কেমন ছিল, ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদানে কোন ধরনের সমস্যা হয় কিনা, জাল ভোট পড়ে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করেন।

পর্যবেক্ষকরা ভোটের দিন কেন্দ্রীয় সেলের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় করে ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।

পর্যবেক্ষকরা ভোট পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট প্রদান করেন এবং তাদের প্রদেয় তথ্য জমা হওয়ার পর রিপোর্টের সকল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় কমিটি সাত সদস্যর একটি বোর্ড গঠন করে।

উক্ত বোর্ড সর্বসম্মত্তি ক্রমে সকল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে চুড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়ার অনুমোদন দেয়।

রিপোর্টে উঠে আসে অনাকাংক্ষিত কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ৭ জানুয়ারী বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হিসেবে প্রতিয়মান হয় যেখানে বিশ্বের গনতান্ত্রিক দেশের ন্যায় বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ছিল স্বাধীন এবং কোনধরনের প্রভাবিত হয় নাই এবং তাদের বিচক্ষণতা প্রশংসার দাবিদার। মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের ভুমিকা পালন ছিল দলীয়করন মুক্ত, স্বাধীন প্রশাসনীক ব্যাবস্থা নির্বাচন এর জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচন অনুসন্ধান টিমের সকল জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভুমিকা এবং তাদের বিচক্ষণতার কারনে ভোট গ্রহণের দিন বড় রকমের অপ্রীতিকর সংঘাত ছাড়াই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category